New Muslims APP

নামায পড়ার নিয়ম

নামায পড়ার নিয়ম

নামায পড়ার নিয়ম
নামায পড়ার নিয়ম
নামায পড়ার নিয়ম

নামায পড়ার নিয়ম

তাহারৎ বা পবিত্রতা:

ছালাতের আবশ্যিক পূর্বশর্ত হল ত্বাহারৎ বা পবিত্রতা অর্জন করা। যা দু’প্রকারের : আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, অর্থাৎ দৈহিক। ‘আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা’ বলতে বুঝায় হৃদয়কে যাবতীয় শিরকী আক্বীদা ও ‘রিয়া’ মুক্ত রাখা এবং আল্লাহর ভালবাসার ঊর্ধ্বে অন্যের ভালবাসাকে হৃদয়ে স্থান না দেওয়া। ‘দৈহিক পবিত্রতা’ বলতে বুঝায় শারঈ তরীকায় ওযূ, গোসল বা তায়াম্মুম সম্পন্ন করা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ (অন্তর থেকে) তওবাকারী ও (দৈহিকভাবে) পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন’ (বাক্বারাহ ২/২২২) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,

لاَ يَقْبَلُ اللهُ صَلاَةَ أَحَدِكُمْ إِذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ (رواه البخاري)

 ‘মহান আল্লাহ কারু নামায কবুল করেন না পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত ।’ (বুখারী ৬৯৫৪)

মুছল্লীর জন্য দৈহিক পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত যরূরী। কেননা এর ফলে বাহ্যিক পবিত্রতা হাছিলের সাথে সাথে মানসিক প্রশান্তি সৃষ্টি হয়, শয়তানী খেয়াল দূরীভূত হয় এবং মুমিনকে আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। ইসলামে দৈহিক পবিত্রতা হাছিলের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে- ওযূ, গোসল ও তায়াম্মুম।

ওযূ করার পূর্বে পেশাব পায়খানার প্রয়োজন হলে, তা সেড়ে নিতে হবে। এবং পেশাব বা পায়খানা করার পর ইস্তেঞ্জা করতে হবে। তা হলো: ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা এবং পানি দ্বারা ধৌত করা। যদি যে কোনো একটিরিউপর ক্ষান্ত করে, তাহলে শুধু ব্যবহার করা উত্তম। আর উন্নতির যুগে যেখানে সমস্ত জায়গায় টয়লেটের সাথে পানির ব্যবস্থা করা আছে, এসব স্থানে ‍শুধু পানি ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ইস্তেঞ্জার শেষে তোয়ালে কিংবা টিস্যু পেপার দিবে অঙ্গ মুছে নিবে।

ইস্তেঞ্জা করার পদ্ধতি:

 টয়লেটে এতক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে, যতক্ষণ নিশ্চিত হওয়া যায়, তার পেশাব আর বের হবে না। ফোটা ফোটা পরার আশঙ্কা নিয়ে ওযূ করা ঠিক হবে না।

ইস্তেঞ্জার ক্ষেত্রে তিনটি ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা মুস্তাহাব। আর ইস্তেঞ্জা করার নিয়ম হলো যে, প্রথম কুলুখ বা টিস্যু পেপার সামনের দিক থেকে পেছনে দিকে মুছবে, এবং দ্বিতীয়টি পেছনের দিক থেকে সামনের দিকে মুছবে, শেষেরটি সামনের দিক থেকে পেছনে দিকে মুছবে। যদি অণ্ডকোষ ঝুলন্ত থাকে। আর যদি ঝুলন্ত না থাকে তাহলে পেছন থেকে শুরু করে সামনের দিকে আনবে। আর মহিলারা সবসময় সামনের দিক থেকে পেছনের দিকে কুলুখ বা টিস্যু ব্যবহার করবে। কারণ মহিলারা পেছন থেকে শুরু করলে যোনীপথে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মহিলারা সর্বদা সামনের দিক থেকে শুরু করে পেছনের দিকে নিবে। অতঃপর হাত পানি দ্বারা ধৌত করে সৌচ কাজ সম্পাদন করবে। যেন কোন দুর্গন্ধ না থাকে।  (নূরুল ঈযাহ)

আর পেশাব-পায়খানার জন্য টয়লেট ব্যবহার করা উত্তম। কেননা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং সেখানে পবিত্র হওয়ার পানির সুব্যবস্থা থাকে।

ইস্তেঞ্জা হতে ফারেগ হওয়ার পরই একজন মানুষ ওযূর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

ওযূ:

আভিধানিক অর্থ স্বচ্ছতা (الوَضاءة)। পারিভাষিক অর্থে পবিত্র পানি দ্বারা শারঈ পদ্ধতিতে হাত, মুখ, পা ধৌত করা ও (ভিজা হাতে) মাথা মাসাহ করাকে ‘ওযূ’ বলে।

ওযূর তরীকা :

১। প্রথমে মনে মনে ওযূর নিয়ত করবে। অতঃপর

২। ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। অতঃপর

৩। ডান হাতে পানি নিয়ে দুই হাত কব্জি সমেত ধুবে এবং আঙ্গুলসমূহ খিলাল করবে।

৪। এরপর ডান হাতে পানি নিয়ে ভালভাবে কুলি করবে ও প্রয়োজনে নতুন পানি নিয়ে নাকে দিয়ে বাম হাতে ভালভাবে নাক ঝাড়বে। তারপর-

৫। কপালের গোড়া থেকে দুই কানের লতী হয়ে থুৎনীর নিচ পর্যন্ত পুরা মুখমন্ডল ধৌত করবে ও দাড়ি খিলাল করবে। এজন্য এক অঞ্জলি পানি নিয়ে থুৎনীর নিচে দিবে। যদি দাড়ি ঘন হয়, সেই ক্ষেত্রে শুধু উপরের অংশ ধোয়া জরুরি। ভেতরে পানি পৌঁছানো জরুরি নয়। তবে পাতলা হলে চামড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি। অতঃপর

৬। প্রথমে ডান ও পরে বাম হাত কনুই সমেত ধুবে।  এরপর

পানি নিয়ে দু’হাতের ভিজা আংগুলগুলি মাথার সম্মুখ হতে পিছনে ও পিছন হতে সম্মুখে বুলিয়ে একবার পুরা মাথা মাসাহ করবে।

(গর্দান মাসাহ করার কোন বিশুদ্ধ প্রমাণ নেই। ইমাম নবভী (রহঃ) একে ‘বিদ‘আত’ বলেছেন। ‘যে ব্যক্তি ওযূতে ঘাড় মাসাহ করবে, ক্বিয়ামতের দিন তার গলায় বেড়ী পরানো হবেনা’ বলে যে হাদীছ বলা হয়ে থাকে, সেটি মওযূ বা জাল।)

৮। মাথার সাথে ভিজা শাহাদাত আংগুল দ্বারা কানের ভিতর অংশে ও বুড়ো আংগুল দ্বারা পিছন অংশে মাসাহ করবে। অতঃপর
৯। ডান ও বাম পায়ের টাখনু সমেত ভালভাবে ধুবে ও বাম হাতের আংগুল দ্বারা পায়ের আংগুল সমূহ খিলাল করবে।
১০। এভাবে ওযূ শেষে বাম হাতে কিছু পানি নিয়ে লজ্জাস্থান বরাবর ছিটিয়ে দিবে ও নিম্নোক্ত দো‘আ পাঠ করবে-

أَشْهَدُ أَنْ لآ إلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ، اَللَّهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ

উচ্চারণ : আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা-শারীকা লাহূ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহু। আল্লা-হুম্মাজ্‘আল্নী মিনাত্ তাউয়াবীনা ওয়াজ্‘আল্নী মিনাল মুতাত্বাহ্হিরীন।

অর্থ : ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক ও শরীক বিহীন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল’ (মুসলিম)। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন!! (তিরমিযী)।

ওযূর ফরয : ওযূর মধ্যে ফরয হ’ল চারটি।

১. কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া ও ঝাড়া সহ পুরা মুখমন্ডল ভালভাবে ধৌত করা।

২. দুই হাত কনুই সমেত ধৌত করা,

৩. (ভিজা হাতে) কানসহ মাথা মাসাহ করা, ও

 ৪. দুই পা টাখনু সমেত ধৌত করা।

যেমন আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! যখন তোমরা ছালাতের জন্য প্রস্তুত হও, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও হস্তদ্বয় কনুই সমেত ধৌত কর এবং তোমাদের মাথা মাসাহ কর ও পদযুগল টাখনু সমেত ধৌত কর…..’ (মায়েদাহ ৬)। অত্র আয়াতে বর্ণিত চারটি ফরয বাদে ওযূর বাকী সবই সুন্নাত।

দ্রষ্টব্য: ওযূ ভঙ্গ না হলে পুনরায় ওযূ করার প্রয়োজন নাই।

দ্রষ্টব্য: ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ

১. লজ্জাস্থান থেকে কিছু বের হয়ে আসলে ওযু নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন: প্রস্রাব-পায়খানা, বায়ু, বীর্য ও কামরস, ইস্তিহাযার রক্ত প্রভৃতি।

 ২. অধিকাংশ ওলামার মত অনুযায়ী, লজ্জাস্থান ছাড়া শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে কিছু বের হয়ে আসলে ওযু ভাঙবে না।

৩. ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত যে কোনো কারণে (ঘুম, জ্ঞান হারিয়ে ফেলা বা মাদকদ্রব্যের ব্যবহার) সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে ওযু ভেঙে যাবে। তবে যদি চেতনা পুরোপুরি লুপ্ত না হয় (যেমন হালকা তন্দ্রা) তবে ওযু ভাঙবে না।

৪. নিজের বা অন্যের লজ্জাস্থান হাত (কবজি পর্যন্ত) দিয়ে সরাসরি (কোনো আবরণ ছাড়া) স্পর্শ করলে ওযু ভেঙে যায়।

৫. পায়ুপথ স্পর্শ করলে ওযু ভাঙে কিনা তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আমাদের অনুসৃত আলিমদের মত অনুযায়ী ওযু ভাঙে না। ছোট বাচ্চাদের লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওযু ভাঙে না।

৬. সঠিক মত অনুযায়ী বিপরীত লিঙ্গের কাউকে স্পর্শ করলে ওযু ভাঙে না। তবে যৌন ইচ্ছা থেকে স্পর্শ করলে যদি লিঙ্গ থেকে কিছ বের হয়ে আসে, তবেই ওজু ভাঙবে। কিছু বের না হলে ওজু ভাঙবে না।

৭. কেউ মুরতাদ হয়ে গেলে (ইসলাম থেকে বের হয়ে গেলে) তার ওযু এবং অন্য সকল কাজ বাতিল হয়ে যায়। সে যদি পুনরায় ইসলামে প্রবেশ করে তবে তাকে নতুন করে ওযু করতে হবে।
যেসব কারণে ওযূ ও গোসল উভয় ওয়াজিব হয়:

পুরুষের জন্য উত্তেজনার সাথে শুধু বীর্য বের হলে ওযূ ও গোসল ওয়াজিব হয়। আর মহিলাদের ক্ষেত্রে বীর্যের সাথে সাথে মাসিক স্রাব প্রসূতি স্রাব বন্ধ হলেও ওযূ এবং গোসল ওয়াজিব হয়।

নামায চাই ফরয হোক কিংবা নফল প্রত্যেক নামাযের জন্য ওযূ জরুরি। ওযূসহ নামায পড়লেই তা গৃহীত হবে। অন্যথায় তা কবূল হবে না।

কিভাবে নামায পড়বেন?

আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায নির্দিষ্ট সময় ফরজ করেছেন। আর তা হলো:

১। সালাতুল ফজর,

২। সালাতুজ জোহর,

৩। সালাতুল আসর,

৪। সালাতুল মাগরিব, এবং

৫। সালাতুল এশা।  ইসলাম গ্রহণকারী সকল মানুষের উপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া ফরয।

নামায শুরু করা পূর্বেই আপনাকে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে:

১। যে নামায পড়বে, তাকে মুসলমান হতে হবে, বিবেকসম্পন্ন হতে হবে, নামাযের ওয়াক্ত পার্থক্যকারী হতে হবে।

২। শরীর পাক

৩। কাপড় পাক

৪। নামাজের জায়গা পাক

৫। সতর ঢাকা (পুরুষের সতর নাভি হতে হাটু পর্যন্ত  এবং নারীদের সতর হাতের কব্জি ও মুখ ছাড়া সমস্ত শরীর)

৬। কিবলামুখী হওয়া

৭। ওয়াক্ত মত নামাজ পড়া

৮। নামাজের নিয়ত করা। আর নিয়তের স্থান অন্তর, মুখে উচ্চারণ করার আদৌ প্রয়োজন নাই।  এই সাতটি বিষয় নামাযের বাইরের ফরয।

৯। অতঃপর তাকবীরে তাহরীমা বলবে, উচ্চস্বরে তাকবীর তথা আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কান পর্যন্ত উঁচু করবে তখন আঙ্গুলগুলো লাগানো থাকবে।

১০। তাকবীরে তাহরীমার পর ডান হাতকে বাম হাতের উপর রাখবে, ঝুলিয়ে রাখা ঠিক নয়। অর্থাৎ ডান হাতকে বাম হাতের পিঠের ‍উপর রাখবে। কব্জিকে মজবুতভাবে ধরবে। এবং বুকের উপর রাখবে। নারী পুরুষ উভয় হাত বুকের উপর বাঁধবে এখানে কোন পার্থক্য নেই। ডানে বামে না তাকিয়ে সেজদার স্থানে দৃষ্টি রাখবে।

১১। শুধু প্রথম রাকাতে ছানা পড়া, হাদীস শরীফে একাধিক ছানা বর্ণিত আছে, আমরা এখানে উদাহরণ স্বরূপ একটি বর্ণনা করছি।

سُبْحَانَكَ اللهم وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالَى جَدُّكَ وَلا إِلَهَ غَيْرُكَ

 উচ্চারণ :

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (তিরমিজি, আবু দাউদ মিশকাত)

অর্থ : হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

১২। ছানার পরে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ নিম্ন স্বরে পড়বে।

أَعُوْذُ بِا للہِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ * بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

উচ্চারণ : আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম। বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।

অনুবাদ : আমি অভিশপ্ত শয়তান হ’তে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

১৩। অতঃপর সূরায়ে ফাতেহা পূর্ণ পাঠ করবে। আর এটি নামাযের রোকন। সূরায়ে ফাতেহা না পড়লে নামায হবে না। সুতরাং সূরা ফাতেহা অবশ্যই মুখস্ত করতে হবে। যাদের এখনও মুখস্ত হয়নি; তারা আপাতত

سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ ، وَلا إِلَهَ إِلا اللهُ ، وَ اللهُ أَكْبَرُ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللهِ

উচ্চারণ: সুবাহান্নাল্লিহি ওয়ালহামদুলিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা ক্বুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ।

অর্থ: আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। তিনি ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই। তিনি সবচেয়ে বড়। ভালো কাজ শক্তি ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার তাওফীক তার পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে।

১৪। সূরায়ে ফাতিহা পাঠ শেষে ইমাম কিংবা একাকী মুছল্লী হলে প্রথম দু‘রাকআতে কুরআনের অন্য কোন সূরা বা কিছু আয়াত তেলাওয়াত করবে। কিন্তু মুক্তাদী হলে জেহরী ছালাতে চুপে চুপে কেবল সূরায়ে ফাতিহা পড়বে ও ইমামের ক্বিরাআত মনোযোগ দিয়ে শুনবে। তবে যোহর ও আছরের ছালাতে ইমাম মুক্তাদী সকলে প্রথম দু‘রাকআতে সূরায়ে ফাতিহা সহ অন্য সূরা পড়বে এবং শেষের দু’রাক‘আতে কেবল সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করবে।

১৫। রুকূ : ক্বিরাআত শেষে ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে দু’হাত কাঁধ অথবা কান পর্যন্ত উঠিয়ে ‘রাফ‘উল ইয়াদায়েন’ করে রুকূতে যাবে। এ সময় হাঁটুর উপরে দু’হাতে ভর দিয়ে পা, হাত, পিঠ ও মাথা সোজা রাখবে এবং রুকূর দো‘আ পড়বে। রুকূর দোআ : سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ সুবহা-না রবিবয়াল ‘আযীম’ (মহাপবিত্র আমার প্রতিপালক যিনি মহান) কমপক্ষে তিনবার পড়বে।

১৬। অতঃপর রুকূ থেকে উঠে সোজা ও সুস্থিরভাবে দাঁড়াবে। এ সময় দু’হাত ক্বিবলামুখী খাড়া রেখে কাঁধ পর্যন্ত উঠাবে এবং ইমাম ও মুক্তাদী সকলে বলবে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ .. ‘ সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ তার কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে)। অতঃপর ‘ক্বওমা’র দো‘আ একবার পড়বে। رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْد  রববানা ওয়া লাকাল হাম্দ’ কখনো কখনো এই দোয়াও রাসূল (সা.) পড়তেন: رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ. مِلْءُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ. وَمِلْءُ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ. রববানা ওয়া লাকাল হাম্দ’ মিলউস সামাওয়াতি ওয়ালআরদ, ওয়ামিলউ মা শি‘তা মিন শাইয়িম বা‘দু।

১৭।সিজদা: ক্বওমার দো‘আ পাঠ শেষে ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে প্রথমে দু‘হাত ও পরে দু’হাঁটু মাটিতে রেখে সিজদায় যাবে ও বেশী বেশী দো‘আ পড়বে। এ সময় দু‘হাত ক্বিবলামুখী করে মাথার দু‘পাশে কাঁধ বা কান বরাবর মাটিতে স্বাভাবিকভাবে রাখবে। কনুই ও বগল ফাঁকা থাকবে। হাঁটুতে বা মাটিতে ঠেস দিবে না। সিজদা লম্বা হবে ও পিঠ সোজা থাকবে। যেন নিচ দিয়ে একটি বকরীর বাচ্চা যাওয়ার মত ফাঁকা থাকে। আর উভয় পা খাড়া করে মিলিয়ে রাখবে। অতঃপর সিজদার দোয়া পাঠ করবে: سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى  (সুবহা-না রব্বিয়াল আ‘লা) অর্থঃ ‘মহাপবিত্র আমার প্রতিপালক যিনি সর্বোচ্চ’। কমপক্ষে তিনবার পড়বে। রুকূ ও সিজদার অন্য দো‘আও রয়েছে।

১৮। অতঃপর সিজদা থেকে উঠে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে ও ডান পায়ের পাতা খাড়া রাখবে। বসা অবস্থায় হাতে পাতা রানের উপর রাখবে, এবং স্থিরভাবে বসে দো‘আ পড়বে।  رَبِّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وارفعني وَاهْدِنِي وعافني وَارْزُقْنِي

এবং কখনো কখনো রাসূল (সা.) এই দো‘আও বলতেন: رَبِّ اغْفِرْ لِي رَبِّ اغْفِرْ لِي

১৯। অতঃপর ‘আল্লা-হু আকবর’ বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাবে ও প্রথম সিজদার ন্যায় তাসবীহ পড়বে।

এই পর্যন্ত প্রথম রাকাআত পূর্ণ হলো:

২০। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দ্বিতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবে। এসময় মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াবে না। দ্বিতীয় রাকাআতও প্রথম রাকাআতের ন্যায় পড়বে। তবে এখানে তাকবীরে তাহরীমা, ছানা, আউযুবিল্লাহ পড়বে না। আর বাকী সবই পড়বে।

২১। অতঃপর তাশাহহুদ পড়ার জন্য বসবে, যদি নামায দুই তাশাহহুদ বিশিষ্ট হয় যেমন, জোহর, আছর, মাগবির, এশা তখন দুই সিজদার মাঝে যেভাবে বসেছিলে, সেভাবে বসবে।

২২। অতঃপর প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করবে:

 اَلتَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

উচ্চারণ : আত্তাহিইয়া-তু লিল্লা-হি ওয়াছ্ ছালাওয়া-তু ওয়াত্ ত্বাইয়িবা-তু আসসালা-মু ‘আলায়কা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু। আসসালা-মু ‘আলায়না ওয়া ‘আলা ‘ইবা-দিল্লা-হিছ ছা-লেহীন। আশহাদু আল লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়া আশহাদু আনণা মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহু ।

অনুবাদ: যাবতীয় সম্মান,যাবতীয় উপাসনা ও যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপরে শান্তি বর্ষিত হৌক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সমৃদ্ধি সমূহ নাযিল হউক। শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের উপরে ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাগণের উপরে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল’।

২৩। বৈঠকের সময় বাম হাতের আঙ্গুলগুলি বাম হাঁটুর প্রান্ত বরাবর ক্বিবলামুখী ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকবে এবং ডান হাত ৫৩-এর ন্যায় মুষ্টিবদ্ধ রেখে সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত শাহাদাত অঙ্গুলি নাড়িয়ে ইশারা করতে থাকবে। অথবা কণিষ্ঠা ও অনামিকা মুষ্টিবদ্ধ করবে এবং মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গলীকে বৃত্ত বানাবে এবং তর্জনী উঁচু করবে।

২৪।  অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে হাত উঁচু করে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে তৃতীয় রাকাআতের জন্য দাঁড়াবে। এসময় মাটিতে ভর দিয়ে দাঁড়াবে না।অতঃপর শুধু সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করবে। অন্য কোন সূরা পাঠ করবে না। কেননা রাসূল (সা.) হতে তৃতীয় ও চতুর্থ সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু পড়েছেন এ কথা প্রমাণিত নাই।

২৫। অতঃপর চতুর্থ রাকাআত পড়বে, তৃতীয় রাকাআতের ন্যায়। আর এই দুই রাকাআত প্রথম দুই রাকাআত অপেক্ষা সংক্ষেপ হবে।

২৬। জোহর, আসর, এশা এর চার রাকাআতের পর এবং মাগরিবের তৃতীয় রাকাআতের পর ফজর, জুমুআ, ও ঈদের নামাযের দ্বিতীয় রাকাআত পড়ে শেষ তাশাহহুদের জন্য বসবে।

২৭। ১ম বৈঠকে বাম পায়ের পাতার উপরে বসবে এবং শেষ বৈঠকে ডান পায়ের তলা দিয়ে বাম পায়ের অগ্রভাগ বের করে বাম নিতম্বের উপরে বসবে ও ডান পা খাড়া রাখবে। এসময় ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি ক্বিবলামুখী করবে।

এখানেও প্রথম বৈঠকের তাশাহহুদ পাঠ করবে। অতঃপর রাসূলের উপর দরূদ শরীফ পাঠ করবে।

২৮। দরূদে ইবরাহীম একবার পাঠ করবে-

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌاَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ছাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন কামা ছাল্লায়তা ‘আলা ইবরা-হীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক ‘আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া ‘আলা আ-লে মুহাম্মাদিন কামা বা-রক্তা ‘আলা ইব্রা-হীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অনুবাদ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে,যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত’।

২৯। অতঃপর দো‘আয়ে মাছূরাহ পাঠ করবে-

اَللَّهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّلاَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدَكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী যালামতু নাফ্সী যুলমান কাছীরাঁও অলা ইয়াগ্ফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা,ফাগ্ফিরলী মাগফিরাতাম মিন ‘ইনদিকা ওয়ারহাম্নী ইন্নাকা আন্তাল গাফূরুর রহীম’।

অনুবাদ :‘হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের উপরে অসংখ্য যুলুম করেছি। ঐসব গুনাহ মাফ করার কেউ নেই আপনি ব্যতীত। অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ হতে বিশেষভাবে ক্ষমা করুন এবং আমার উপরে অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান’।

৩০। সালাম : দো‘আয়ে মাছূরাহ শেষে প্রথমে ডানে ও পরে বামে ‘আসসালামু আলায়কুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ (আল্লাহর পক্ষ হ’তে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হৌক!) বলে সালাম ফিরাবে।

জেনে রাখবেন, ওজরের কারণে সঠিক দাঁড়ানো কিংবা বসা ও রুকু সাজদা করতে না পারলে, নামাযের কোন ক্ষতি হবে না।

নামায ভঙ্গের কারণসমূহ

১। নামাজে কিরাত ভুল পড়া,

২। নামাজের ভিতর কথা বলা,

৩। কোন লোককে সালাম দেওয়া,

৪। সালামের উত্তর দেওয়া,

৫। ঊহ-আহ শব্দ করা,

৬। ইচ্ছা করে কাশি দেওয়া,

৭। আমলে কাছীড় করা যেমন- মোবাইল বন্ধ করা বা দীর্ঘ সময় নিয়ে শরীর চুলকানো, ইত্যাদি, তবে এক হাত দিয়ে মোবাইল সাইলেন্ট করা যাবে,

৮।  বিপদে অথবা বেদনায় শব্দ করে কাঁদা

৯। তিন তাছবীহ পড়ার সময় পরিমাণ সময় ছতর খূলে থাকা

১০। মূকতাদী ছাড়া অন্য কারো থেকে নামাজ সম্পর্কিত কোন শব্দ গ্রহণ করা

১১। নাপাক জায়গায় সিজদাহ করা

১২। কিবলার দিক হতে সিনা ঘুরে যাওয়া

১৩। নামাজে শব্দ করে হাসা

১৪। হাঁচির উত্তর দেওয়া

১৫। নামাজে খাওয়া অথবা পান করা

১৬। ইমামের আগে দাঁড়ানো

পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের রাকআত সংখ্যা ও সময় সীমা

সময়

রাকআত সংখ্যা ফরয নামায
ভোরের দ্বিতীয় আলো উদিত হওয়ার পর থেকেসূর্য উদিত পর্যন্ত ২ রাকআত ফজর
যখন সূর্য হেলে পড়ে।  আর শেষ সময় হলো যখন প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হয়। ৪ রাকআত জোহর
 জোহরের শেষ সময় হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ৪ রাকআত আসর
সূর্য যখন ডুবে যায় এবং তার শেষ সময় হলো যতক্ষণ না দিগন্ত লালিসা অদৃশ্য হয়। ৩ রাকআত মাগরিব
 দিগন্ত লালিসা অদৃশ্য হওয়ার পর থেকে ভোরের দ্বিতীয় আলো উদিত হওয়া পর্যন্ত। ৪ রাকআত এশা

 

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...

Leave a Reply